এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার হুমকিতে দেশের জনস্বাস্থ্য
আপডেটঃ 5:59 pm | August 27, 2019
অনিয়ন্ত্রিত এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের মানুষ ও প্রাণিকে সুপার-বাগের হুমকির সম্মুখীন হতে হবে। ইদানীং এন্টিবায়োটিক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেই এই ব্যাকটেরিয়ার (সুপার-বাগ) সংক্রমণ ঠেকাতে অধিকাংশ ওষুধই ব্যর্থ হচ্ছে। জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল এবং রাশিয়ার ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণের ৬০ শতাংশই এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। আগামীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশকে এ এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার চ্যালেঞ্জ চরমভাবে মোকাবিলা করতে হবে। শনিবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত ‘এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ‘সুপার-বাগ’ : ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর এবিএম ফারুকের সভাপতিত্বে এ গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনার সূত্রপাত করেন ডা. ফারিজা ফাইরোজ। বক্তব্য রাখেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শক ডা. মু. মুশতাক হোসেন, বিসিএসআইআরএ’র সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. কেএম ফরমুজুল হক, পবার সম্পাদক এমএ ওয়াহেদ, বানিপার সভাপতি প্রকৌ. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, পবার সদস্য মুস্তারি বেগম, এলিজা রহমান প্রমুখ।
আবু নাসের খান বলেন, এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বর্তমানে একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এন্টিবায়োটিক এমন একটি ওষুধ যা দিয়ে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগের চিকিৎসা করা হয়। ওষুধের প্রতি যখন ব্যাকটেরিয়া আর সংবেদনশীল থাকে না তখনই এন্টিবায়োটিক ওই ব্যাকটেরিয়াটির বিরুদ্ধে অকার্যকর হয়ে যায়। ফলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগের চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে খুবই সাধারণ ইনফেকশন/সংক্রমণের চিকিৎসাও জটিল হয়ে পড়ে। সারা বিশ্বে এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা এখন একটি বৃহৎ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের প্রতি একটি ক্রমবর্ধমান গুরুতর হুমকি।
আর্ক ফাউন্ডেশনের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে ডা. ফারিজা ফাইরোজ বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষ এন্টিবায়োটিক এবং অন্য সাধারণ ওষুধের মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারেন না, যে কারণে তারা অনেক সময় নিজের অজান্তে/অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করে থাকেন। গবেষণায় এ তথ্যটিও উঠে এসেছে যে, মুদি দোকানে পর্যন্ত ওষুধ বিক্রি হয়। এছাড়াও কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহের অপর্যাপ্ততার কারণে রোগীকে পর্যাপ্ত এন্টিবায়োটিক ওষুধ প্রদান করা সম্ভব হয় না, যে কারণে অনেক সময় রোগী ফুলকোর্স সম্পন্ন করেন না (যেহেতু এ ওষুধ ব্যায়বহুল)। তথ্যমতে, বাংলাদেশের এন্টিবায়োটিক ওষুধগুলোর অর্ধেকেরও বেশি নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবস্থাপত্রে প্রদান, বিতরণ কিংবা বিক্রয় করা হয়ে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শপত্রের সংক্ষিপ্ততা, রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রদান না করা, সঠিক রোগ নির্ণয়কে গুরুত্ব আরোপ না করা এবং চিকিৎসকদের দ্বারা সঠিক এন্টিবায়োটিক প্রদান না করার ফলে দেশে এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে


