| |

Ad

ইব্রাহীমের শ্রেষ্ঠ গৌরব অর্জন ম্লান করে দিল অর্থলোভ

আপডেটঃ 1:22 pm | August 27, 2019

২৪তম ব্যাচের বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হয়েছেন, ১২ বারের মতো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শ্রেষ্ঠ ডিসি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন, তবে এবার তিনি কোটি টাকার লোভ সামলাতে পারলেন না। অর্থলোভই ম্লান করে দিয়েছে ডিসি মোহাম্মদ ইব্রাহীম খানের শ্রেষ্ঠ গৌরব অর্জন। এমনটাই বললেন পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত দাপুটে এক পুলিশ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আক্ষেপের সঙ্গে তিনি বলেন, ডিএমপিতে সবচেয়ে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন তিনি। এখন দেখছি আমার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ছিল।

শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের বাড়ি দখলে ভূমিদস্যু দুই ভাই আবেদ ও জাবেদের সঙ্গে ৩ কোটি টাকা লেনদেন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান। রাজধানীর বংশাল থানার ২২১ নবাবপুর রোডের দখলকৃত তিনতলা বাড়ি ভেঙে ২০০ জন শ্রমিক দিয়ে রাতারাতি শুরু হয় নতুন ভবন নির্মাণ।

তদন্ত সূত্র বলছে, বাড়িটি দখলে সহায়তার জন্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান ২ কোটি টাকা ঘুষ নেন। আর সংশ্লিষ্ট থানার ওসি শাহিদুর রহমান নেন এক কোটি টাকা। এরপর বাড়িটি দখলে নিতে সব ধরনের সহায়তা করেন ডিসি-ওসি ও এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন।

নিরুপায় শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে দেখা করেন। আইজিপি ডিএমপি কমিশনারকে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলমের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওসি, এসআই জাহাঙ্গীর ও এসআই মাহবুব বাড়ি দখলে জড়িত। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ভিকটিমের জানমালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ। পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিয়েছে।

READ  ন্যাপপ্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আর নেই

পুরো প্রতিবেদন হাতের পাওয়ার পর, ডিসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন আইজিপি। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সোমবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ইব্রাহিম খানকে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।

ইব্রাহিম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে বংশাল থানার তৎকালীন ওসি (বর্তমানে ওসি কোতোয়ালি) শাহিদুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। আমার সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনে কি আছে সেটা আমি জানি না। সূত্র-জাগরণ।